Header Ads

তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম মাইজভাণ্ডারি। The originator of the Tariqa was Gausul Azam Maizbandari

 তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম মাইজভাণ্ডারি

মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) (১৮২৬-১৯০৬)

আজ থেকে দীর্ঘ চার শতাধিক বছর আগে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে গৌড়নগর বিচারালয়ের কাজী সৈয়দ হামিদ উদ্দীন বাংলার রাজধানী গৌড়নগর থেকে সুদূর চট্টগ্রামের পটিয়া থানার অন্তর্গত কাঞ্চননগরে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর নামানুসারেই স্থানীয় গ্রামের নামকরণ করা হয় হামিদগাঁও। তাঁরই এক পুত্র জনাব সৈয়দ আবদুল কাদের মসজিদের ইমামতি উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার অন্তর্গত আজিমনগর গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন।

সৈয়দ আবদুল কাদেরের পুত্র সৈয়দ আতাউল্লাহ এবং তদীয় পুত্র সৈয়দ তৈয়বউল্লাহ্। সৈয়দ তৈয়ব উল্লাহ্র তিন পুত্রের অন্যতম মৌলবি সৈয়দ মতিউল্লাহ আজিমনগর থেকে মাইজভাণ্ডার গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। তাঁরই ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)।

কাজী সৈয়দ হামিদ উদ্দিন

(গৌড় থেকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় আগমন। (১৫৭৫)

সৈয়দ আবদুল কাদের

(ফটিকছড়ির আজিমনগরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন)

সৈয়দ আতা উল্লাহ্

সৈয়দ তৈয়ব উল্লাহ

সৈয়দ মতিউল্লাহ্

(মাইজভাণ্ডার গ্রামে বসতি স্থাপন)

মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত শাহসুফি

 মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)


https://drive.google.com/file/d/1XGxCxYLN8akmGzevOZyd9BdgrAMnBI-y/view?usp=drivesdk

জন্ম ও নামকরণ

জন্ম: বাঙলা ১২৩৩ সনের ১লা মাঘ (১৮২৬ খ্রিঃ। রোজ বুধবার। সপ্তম দিবসে যথারীতি শিশুপুত্রের নাম রাখা হবে, এর মধ্যে তৃতীয় দিবসে তদীয় পিতা সৈয়দ মতিউল্লাহ্ স্বপ্নে দেখেন প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ মুস্তফা (সঃ) তাঁকে বলেছেন, 'হে মতিউল্লাহ্, তোমার ঘরে আমার প্রিয় মাহবুব আহমদ উল্লাহ্ এসেছেন।' স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে সৈয়দ মতিউল্লাহ্ তদীয় পুত্রের নাম রাখেন 'আহমদ উল্লাহ্'।

শিক্ষা জীবন

শিশু আহমদ উল্লাহকে চার বছর চার মাস বয়সে স্থানীয় গ্রামের মক্তবে ভর্তি করা হয়। এই মক্তব থেকেই তিনি প্রাথমিকভাবে আরবি ও বাংলা শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তিনি প্রত্যেকবছর পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করতেন। দীর্ঘ আটবছর উক্ত মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শেষে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এ সময় হাদীস, তসর, ফেকাহ, মন্তেক, হেকমত, বালাগাত, উদ্বুল, আকায়েদ, ফিলছফা ও ফরায়েজিসহ যাবতীয় বিষয়ে তিনি যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এছাড়া মাতৃভাষা বাংলা এবং একই সাথে উর্দু, ফারসি, আরবি প্রভৃতি ভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।

মাদ্রাসার শিক্ষা-জীবন শেষ করে তিনি যশোরে কাজি হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। এ সময় তিনি প্রথমস্থান অধিকার করে মুন্সেফি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে কাজির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কলিকাতার মুন্সি বো-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেস হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন।

বেলায়ত অর্জন

কলিকাতা থাকাকালীন একদা হযরত আহমদউল্লাহ্ পালকিযোগে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে এক দূরদর্শী তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন আউলিয়ার অন্তর্চক্ষুতে ধরা পড়েন। তিনি হলেন হযরত আবদুল কাদের জ্বিলানীর বংশধর সৈয়দ আবু শাহমা মোহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী। তিনি তাঁর অর্জিত 'লাল' (আধ্যাত্মিক জগতের উপর পর্যায়ের স্তর বিশেষ। অর্পণের জন্যে এতদিন উপযুক্ত পাত্রের খোঁজে ছিলেন। কাল বিলম্ব না করে তিনি তদীয় শিষ্য শাহ এনায়েত উল্লাহ সাহেবকে পাঠালেন পালকির আরোহী সৈয়দ আহমদ উল্লাহকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে। একদিকে নির্ধারিত

মাহফিলে যোগদান, অন্যদিকে একই সময় একজন মহান অলির সাক্ষাতের আহবান। তিনি উপলব্ধি করলেন, নিশ্চয় আল্লাহর কোনো রহস্য এতে লুকিয়ে আছে। তিনি সম্মানের সাথে সৈয়দ লাহোরী সাহেবের আহ্বানে সাড়া দেন। লাহোরী সাহেব তাঁকে সসম্মানে নিজের পাশে বসিয়ে রহস্যপূর্ণ আলাপ শুরু করেন এবং তাঁর জন্য উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করে তা গ্রহণ করার আহ্বান জানান। হযরত কেবলা বিস্মিল্লাহ বলে খাবার শুরু করেন। দেখতে দেখতে পাত্রপূর্ণ খাবার নিঃশেষ হয়ে যায়, কিন্তু হযরত কেবলার তৃপ্তি হলো না, তিনি আরো আগ্রহী। এ অবস্থায় সৈয়দ লাহোরী সাহেব ঈষৎ হেসে বললেন, 'হে প্রিয়তম, আমার রান্নাঘরে আপনার জন্য রক্ষিত সবকিছুই পরিবেশন করা হয়েছে। এর অধিক প্রয়োজনে আপনি স্বহস্তে পাক করে খাবেন।'

পরর্তীকালে তিনি লাহোরী সাহেবের নির্দেশক্রমে তদীয় বড় ভাই সৈয়দ দেলাওরআলী পাকবাজ সাহেবের খেদমতে গিয়ে ফয়েজ গ্রহণ করেন। এভাবে হযরত কেবলা দু'জন মহান অলি-আল্লাহর ফয়েজ রহমতে অভিষিক্ত হন। উক্ত ঘটনার পর থেকে হযরতের জজবাতী হাল অত্যধিক বেড়ে যায়। এত প্রাপ্তির পরও তিনি শান্ত নন, ক্ষান্ত নন, তিনি আরো অসীমের প্রত্যাশী। তাই তিনি দিবাভাগে ধর্মীয় শিক্ষাদান এবং সারারাত জেগে গভীর আধ্যাত্মিক সাধনায় কাল কাটাতে লাগলেন। তিনি যেন তাঁর পীর সাহেবের 'স্বহস্তে পাক করে খাবেন' এ পবিত্র বাণীকে সযত্নে কার্যকরী করতে লাগলেন। আধ্যাত্মিক প্রেরণার আধিক্যে প্রায়-সময় তিনি আত্মভোলা হয়ে পড়তেন। 'মোরাকাবা' মোশাহেদা'য় তাঁর অধিক সময় অতিবাহিত হতো। ক্রমেই তাঁর জজবাতী হাল এত অধিক পরিমাণে বেড়ে চলল যে, পানাহার পর্যন্ত ছেড়ে দেন। স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ নেই, জীবন-মরণের আশা এবং ভয়ভীতিও নেই; অনিদ্রা- অনাহারে দিন কাটাতে লাগলেন। নিয়ম রক্ষার্থে যৎসামান্য নাস্তা বা পানীয় গ্রহণে 'রোজা' পালন করতে লাগলেন। তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ল, সমস্ত শরীর কৃশ এবং চক্ষু ও চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। 'বায়াত' গ্রহণের তিন বছর পর ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় হযরতের জননী পুত্রকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। হযরতের মধ্যমভ্রাতা সৈয়দ আবদুল হামিদ সাহেব কলিকাতায় গিয়ে হযরতের পীরের সম্মতিক্রমে তাঁকে স্বগ্রাম মাইজভাণ্ডার নিয়ে আসেন।

বিবাহ ও সংসার জীবন

কলিকাতা থেকে বাড়ি আসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমে উন্নতিলাভ করতে থাকে। এর মধ্যে এবাদত-রিয়াজত পূর্বের মতোই অব্যাহত রাখলেন। পরিবার বা সংসারজীবন সম্পর্কে একেবারে উদাসীন, আধ্যাত্মিক ভাব-তন্ময়তার দিন কাটাতেথাকেন। স্নেহময়ী জননী পুত্রের এহেন অবস্থা দর্শনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্থির করলেন, বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ করলে সংসারের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। ৩২ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী আজিমনগর গ্রামনিবাসী মুন্সি সৈয়দ আফাজউদ্দীন আহমদ সাহেবের কন্যা সৈয়দা আলফুন্নেছা বিবির সাথে হযরতের বিবাহকার্য সুসম্পন্ন হয়। আল্লাহর মর্জি, মাত্র ছয়মাসের মধ্যে হযরতের এই সহধর্মিনী ইহজগত ত্যাগ করেন। এরপর উক্ত আজিমনগর নিবাসী সৈয়দ আফাজউল্লাহ্ সাহেবের কন্যা মোসাম্মাৎ সৈয়দা লুৎফুন্নেছা বিবির সাথে তাঁর বিবাহ হয়। বিয়ের দুই বছর পর এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। নামঃ সৈয়দা বদিউন্নেছা। মাত্র চার বছর বয়সে এই কন্যাসন্তান মারা যায়। এরপর এক পুত্রসন্তান জন্মলাভ করে অল্পদিনের মধ্যেই মারা যায়। ১৮৮২ হিজরী ১৮৬৫ খ্রীস্টাব্দে আর এক পুত্র সন্তান লাভ করে, তাঁর নাম রাখা হয় সৈয়দ ফয়জুল হক। অতঃপর এক কন্যাসন্তান সৈয়দা আনোয়ারুন্নেসা। হযরতের একমাত্র পুত্র সৈয়দ ফয়জুল হক দুই পুত্রসন্তান রেখে অল্প বয়সে হযরতের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।

হযরত কেবলার শানে গান-গজল ইত্যাদি রচনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ



গাউসুলআজম মাইজভাণ্ডারী হযরত কেবলার প্রবর্তিত তরিকা এবং তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভক্তি ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তদীয় ভক্ত-অনুরক্তদের রচিত বিভিন্ন গান-গজল ইত্যাদিতে। এরকম গান-গজল ইত্যাদি রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- মাওলানা আবদুলহাদী কাঞ্চনপুরী, মাওলানা বজলুল করিম মন্দাকিনী, ফজলুর রহমান  

No comments

Powered by Blogger.