Header Ads

আকাইদ ও মাসায়েল ||

 দ্বীন ও শরিয়ত বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন


আল্লামা মুফতি ছৈয়্যদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী 

সাবেক অধ্যক্ষ, জামেয়া  আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া, ষোলশহর, চট্টগ্রাম



হাফেজ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান


আলিম ১ম বর্ষ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া।


প্রশ্ন: ছাত্রদের লেখাপড়া ভাল হওয়ার জন্য এবং স্মৃতিতে স্থায়ী করার জন্য এবং ভুলে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন আমল জানালে খুশি হব।


উত্তর: হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর শিক্ষক হযরত ওয়াকি রহমাতুল্লাহি আলায়হিকে পড়া মুখস্থ বা মনে না থাকার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন তুমি গুনাহর কাজ হতে দূরে থাক। এতে তোমার স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পাবে। দরূদ শরীফ এবং রাব্বি জিদনি ইলমা মহব্বতের সাথে বেশী বেশী পড়লেও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। তালিমুল মুতাআল্লিম কিতাবে উল্লেখ আছে 'পড়া মনে রাখার শক্তিশালী উপায় হল কঠোর প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক পঠন, কম আহার এবং তাহাজ্জুদের নামায পড়া। কুরআন করিমের তিলাওয়াত ও স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম উপায়। কোন কোন ইমাম বলেছেন-স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির জন্য দেখে কুরআন করিম তেলাওয়াতের চেয়ে অধিক কার্যকরী কোন বিষয় নেই। এছাড়া মিসওয়াক করা, মধু পান করা, আর প্রতিদিন লালচে রং এর একুশটি কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া এতে স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং বহু রোগ ব্যাধি হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। আর যেসব বস্তু কফ ও বলগমকে হ্রাস করে তা আহার করলে স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। (তালিমুল মুতাআল্লিম)


মুহাম্মদ আনিসুল ইসলাম অনার্স, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ।


প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় আহলে হাদীসের অনুসারী এক আলেম বলেছে, মাযহাব মানা জায়েয নেই। এ প্রসঙ্গে শরিয়তের আলোকে প্রমাণসহ বর্ণনা করলে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর: মাসায়েলে মুতাফাররায়া তথা যে মাসআলাসমূহ কোরআন করিম, হাদিস শরীফ এবং ইজমায়ে উম্মত থেকে ইজতিহাদ তথা ব্যাপক গবেষণার ভিত্তিতে মুজতাহিদগণ বের করেছেন তাতে গাইরে মুজতাহিদ তথা ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুসলমানদের জন্য মুজতাহিদদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। যেমন নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি মাসাইলসমূহ দ্বীনের হক্কানী ও প্রকৃত মুজতাহিদগণকে অনুসরণ করা। যারা মাযহাব মানে এবং হক্কানী মুজতাহিদদের অনুসরণকে সমর্থন করে তারাই হল বেহেশতী ও মুক্তিপ্রাপ্ত দল। আর যারা মাযহাব মানে না এবং মুজতাহিদদের অনুসরণকে সমর্থন করে না বরং কটুক্তি করে তারা হল জাহান্নামী ও ভ্রান্ত। যেমন দুররুল মুখতারের হাশিয়ায় আল্লামা আহমদ মিসরী তাহতাবী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন 'যে ব্যক্তি অধিকাংশ আলেম,ফিকাহবিদ ও সাওয়াদে আযম থেকে পৃথক হবে, সে একাকী হবে যা তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। অতঃপর হে মু'মিন সম্প্রদায়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের অনুসরণ তোমাদের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ্ তায়ালার সাহায্য, তাঁর হিফাজত ও তওফিক প্রদান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসরণের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ্ তায়ালার কাউকে ত্যাগ করা ও অসন্তুষ্ট হওয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের খেলাফ করার উপর নির্ভরশীল এবং এ নাজাতপ্রাপ্ত দল বর্তমানে চার মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হল হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী, আল্লাহ্ তায়ালা তাদের উপর রহমত বর্ষণ করুক। এ যুগে যারা এই চার মাযহাবের বাইরে তারা হল বিদআতী ও জাহান্নামী।


বর্তমানে শরিয়তের মাসআলাসমূহে চার মাযহাব থেকে কোন একটাকে অনুসরণ করাই হল জাহান্নাম থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম। অন্যথায় জাহান্নাম অনিবার্য। মাযহাবের অনুসরণ কোরআন করিমও হাদিস শরীফ দ্বারা সমর্থিত এবং মুজতাহিদীনে কেরামের যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত হক্কানী রাব্বানী ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক স্বীকৃত।


আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- 'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ তায়ালাকে অনুসরণ কর। রাসূলকে অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামকে অনুসরণ কর।


আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলায়হি তফসীরে কবীরে 'উলিল আমরে' এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, উক্ত আয়াতে 'উলিল আমরে' এর উদ্দেশ্য হল দ্বীনের হক্কানী আলেমগণ, ন্যায় পরায়ণ বাদশাহগণ। উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা হক্কানী ওলামায়ে কেরাম, মুজতাহিদীনে ইযামের অনুসরণ করা ওয়াজিব করেছেন।


তাফসীরে সাবীতে সূরা কাহাফের আয়াত 'উযকুর রাব্বুকা ইযা নাছিয়াত' এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে 'চার মাযহাব (হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী) ছাড়া অন্য কোন মাযহাব অনুসরণ করা জায়েয নেই। যদিও তা অর্থাৎ চার মাযহাবের বিপরীত মত বাহ্যিকভাবে সাহাবায়ে কেরামের বাণী, বিশুদ্ধ হাদিস ও আয়াতে করিমার মোতাবেক হয়। উল্লিখিত চার মাযহাবের বাইরে যারা আমল করবে তা ভ্রান্ত ও অপরকে বিভ্রান্তকারী। কেননা কুরআন করিম ও হাদিস শরীফের শুধু বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা কুফরীর মূল। অর্থাৎ কুরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরামের বাণীর মূল রহস্য ও সঠিক তাৎপর্য সম্পর্কে সত্যিকার মুজতাহেদীনে কেরাম জ্ঞাত। সুতরাং মাযহাবকে অস্বীকার করা মানে নিজেকে বিভ্রান্তির মধ্যে বিলুপ্ত রাখা। চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাবকে অনুসরণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয হওয়ার উপর মুজতাহেদীন কেরামের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং বর্তমান সময়ে আহলে হাদিস তথা যারা চার মাযহাবের কোন মাযহাবকে অনুসরণ করে না বা অস্বীকার করে এবং শুধু কুরআন ও হাদিসের বাহ্যিক অর্থের উপর আমল করে তারা গোমরাহ্ ও নিঃসন্দেহে পথভ্রষ্ট।


(তাফসীরে কবীর, হাশিয়ায়ে দুররুল মুখতার ও তাফসীরে সাবী)


উল্লেখ থাকে যে, শরিয়তের যে সব বিধি-বিধান ও হুকুম-আহকাম সুস্পষ্ট যেমন নামায দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত, নামাযের রাকাতসমূহ, রমজানের ত্রিশ রোযা ইত্যাদি সেখানে চার মাজহাব ও চার ইমামের কোন ইমামের অনুসরণ জায়েয নাই। একমাত্র যে সব ফায়সালাকুরআন সুন্নাহ হতে স্পষ্ট প্রমাণিত নয় বরং চার মাজহাব (হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী) এর ইমামগণ কুরান-সুন্নাহ, ইজমা-কিয়াস শরিয়তের চার দলিলের উপর ব্যাপক ইজতেহাদ ও গবেষণা করে বের করেছেন সেখানেই চার মাজহাবের যে কোন একজন ইমামের মাজহাবের অনুসরণ 'তাক্বলীদ' করা 'গায়রে মুজতাহিদ' যে মুজতাহিদ নয় তার) জন্য অপরিহার্য। কারণ কুরআন-সুন্নাহর সুক্ষ্ম বিষয়াদি কোন আয়াত ও হাদিস নাসিখ (রহিতকারী) আর কোন আয়াত ও হাদিস মনসুখ (রহিত), আয়াত ও হাদিসসমূহের মধ্যে কোনটি আগের, কোনটি পরের, কোনটি হাকিকত, কোনটি মুজাজ, কোনটি মুশতারাক, কোনটি মুয়াব্বল ইত্যাদি সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষিত অশিক্ষিত দূরের কথা বর্তমান যুগের শীর্ষস্থানীয় আলিম ওলামারাও অবগত নন। সুতরাং ইজতিহাদকৃত মাসয়ালাসমূহে বর্তমান যুগের সাধারণ-অসাধরণ সকল মুসলমানের জন্য চার মাজহাবের কোন এক মাজহাবের ইমামের অনুসরণ করা অপরিহার্য।


(তাফসীরে সাবী ও তাফসীরে কবির ইত্যাদি)


নিয়ে াদের সুন্নাত এ চার


হল সরণ থকে


কর। এর গণ, রাম,


খ্যায় হাব ভাবে চার আন দিস কার স্তির মান বা ভারা স্নাহর


বী) মায চার


মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম


২য় বর্ষ, অটো মবোইল, বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট।


প্রশ্ন: সত্যিকার কামিল মুর্শিদের কাছে বায়আত গ্রহণ না করে শরীয়ত সম্মত জীবন যাপন করলে পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে কিনা শরীয়তের আলোকে জানতে আগ্রহী।


উত্তর: পীর-মুর্শিদ দু'প্রকার। এক. মুর্শিদে আম, দুই, মুর্শিদে খাস। মুর্শিদে আম হল কুরআন-হাদিস, শরীয়ত তরীকতের ইমাম ও হক্কানী রব্বানী ওলামায়ে কেরামের বাণী সমূহ। সুতরাং এ পরম্পরায় সাধারণ লোকের মুর্শিদ বা পীর হচ্ছে হক্কানী রব্বানী আলিমগণের বাণী। আলিমগণের পথ প্রদর্শক মাযহাবের ইমামগণের বাণী। মাযহাবের ইমামগণের মুর্শিদ হল নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর বাণী। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর বাণী সমূহ হল মহান আল্লাহর বাণীর তফসীর। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনল এবং প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের যে কোন একটির অনুসারী হয়ে শরিয়ত সম্মত পন্থায় জীবন যাপন করল সে নিঃসন্দেহে মুর্শিদে আম এর আনুগত্য করল। এ মুর্শিদে আমের আনুগত্য করা প্রত্যেকের জন্য ফরয। এছাড়া অন্য পথ অবলম্বন করা নিঃসন্দেহে গোমরাহী। মুর্শিদে খাস হল সুন্নী কোন সহীহ আকীদাহ্ ও আমলের অধিকারী। এবং বায়আতের চতুষ্টয় শর্তের ধারক কামিল ব্যক্তির হাতে হাত রেখে আল্লাহ-রাসুলের হুকুম-আহকামের আনুগত্যের উপর অটল থাকার অঙ্গিকারের নাম বায়আত। যাকে প্রচলিত অর্থে পীর-মুর্শিদ বলা হয়। এ বায়আতের মাধ্যমে মানুষের সম্পর্ক পরম্পরায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। এ ধরণের বায়আত সুন্নাত। নিজ ঈমান ও আমলের হেফাজতের জন্য এ ধরনের বায়আত অত্যন্ত বরকতময়। যদিও এ প্রকার বায়আত ফরযের অন্তর্ভূক্ত নয় তবে বর্তমান ফিতনা ফ্যাসাদের যুগে একজন সুন্নী হক্কানী শরিয়তের বিধি বিধানের উপর অবিচল বিশুদ্ধ সিলসিলার অধিকারী পীরের হাতে বায়আত হওয়া অত্যন্ত বরকতপূর্ণ এবং ঈমানআল হক্ক


সংরক্ষণের অন্যতম ওসিলা। ইমান ও আমলের হিফাযতের উদ্দেশ্যে মুর্শিদে কামেলের নিকট বায়আত হওয়া এবং কামেল মুর্শিদের আদেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে মৃত্যুর মুহূর্তে শয়তানের প্রতারণা ও ধোকাবাজি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার এবং পরকালে নাজাত লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশী। সুতরাং কামিল মুর্শিদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ বর্তমান ফিতনার সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


(ফতোয়ায়ে আফ্রিকা কৃত: হযরত ইমাম আহমদ রেযা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ও আল কত্তলুল জমিল কৃত, শাহ ওয়ালি উল্লাহ দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ইত্যাদি।)

No comments

Powered by Blogger.