ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী || সমাজ বিজ্ঞানী, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ভূমিকা
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
সমাজ বিজ্ঞানী, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
যুগান্তকারী তত্ত্ব তথ্য এবং এর অনুষঙ্গ হিসেবে উচ্চমার্গীয় অপরিহার্য তথ্য উপাত্ত আর এর সৃজনশীল তাৎপর্যমন্ডিত প্রকাশ বিকাশ ধারায় বিস্ময়কর আকর্ষণীয় বিষয় হিসেবে বিংশ শতাব্দীতে এ ভূখণ্ডে প্রজ্ঞাপূর্ণ জ্ঞান-রাজ্যের ক্ষেত্রে এক অবিশ্বাস্য অভাবনীয় নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করে দেয় গাউছুল আজম শাহ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (১৮২৬-১৯০৬) ও তাঁর মহাসমুদ্ররূপী মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকা।
সূচনাপর্ব থেকে স্থান কাল পাত্রের আলোকে এই ব্যতিক্রমী অতিক্রান্ত
আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রাগ্রসর চিন্তা-চেতনার নবতর তরিকা হয়ে উঠেছিল সুগভীর তাত্ত্বিক আলোচনা পর্যালোচনা এবং একইসাথে তীব্র সমালোচনারও বিচারবস্তু হিসেবে। চট্টগ্রামের সমাজ জীবন থেকে উত্থিত এই তরিকা এক আশ্চর্য প্রক্রিয়ার (Interaction) এর জন্ম দেয়; যা একইসাথে আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় ও নিস্তরঙ্গ শরিয়তি সমাজ জীবনেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
কায়মনোবাক্যে ভক্তি শ্রদ্ধা ভালোবাসার পাশাপাশি একজন সমাজ তত্ত্বের অনুসন্ধানী গবেষক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে সূচনালগ্ন থেকে
পক্ষে-বিপক্ষের এই Interaction (মিথস্ক্রিয়া) যুগপৎ এই তরিকার প্রবর্তক ও তরিকার তাত্ত্বিক বিষয়ের সাবলীল গ্রহণযোগ্যতা ও স্বাভাবিক প্রবহমানতার সজিব ক্রম সম্প্রসারমানতারই পরিচায়ক। যে কারণে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি সমাজতত্ত্ব ও সমাজ বিজ্ঞানের উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও এই তরিকা আকর্ষণীয় নতুন মাত্রিকতার সংযোগ ঘটানোর উপাদানে
ভরপুর হয়ে উঠেছে সৃজনশীল উচ্চতর গবেষক মহলে। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর সময়কালেই এই তরিকার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অনুষঙ্গ সেমা ও সেজদা বিষয়ক চিরায়ত শাশ্বত জ্ঞান-রাজ্যের উচ্চমার্গীয় ধারায় 'তোহফাতুল আখইয়ার' কিতাব প্রকাশ, স্বয়ং তরিকার প্রবর্তক কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর দান আবার একই সময়কালে একই সাথে তাঁর অনুসরণে সমকালের ৩৩ জন স্বনামধন্য মুফতি আলেম-উলামা কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষর এর অভিনব ঘটনা এ পরিমণ্ডলে নয়, তাত্ত্বিক উচ্চতর জ্ঞান-রাজ্যের গভীরতর গবেষণার ইতিহাসেও এক অনন্য মাইলফলক।
রিহার্য তথ্য বিস্ময়কর জ্ঞান-রাজ্যের করে দেয় ৬) ও তাঁর
অতিক্রান্ত অনার নবতর একইসাথে থকে উত্থিত দেয়; যা নও ব্যাপক
মাজ তলে লগ্ন থেকে কার প্রবর্তক প্রবহমানতার ধ্যাত্মিকতার গবেষণার র উপাদানে
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ধূমকেতুর বিস্ময় নিয়ে আবির্ভাবের মাত্র অর্ধশতাব্দী কালের মধ্যে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে ১৯০৪ সালে আলোচনা সমালোচনার আগ্নেয় গিরীর জ্বালামুখে অবস্থান করে 'জাহান্নামের আগুনে বসে পুষ্পের হাসি হাসার' মাতো অবিশ্বাস্য প্রত্যয় নিয়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর সুনির্বাচিত খলিফা 'নিদানকালের নকীব' মুফতি আল্লামা ফরহাদাবাদী (১৮৬৬-১৯৪৪) কর্তৃক এই অবিস্মরণীয় কিতাবটি (কিতাবের নামও) 'সৌভাগ্যবানদের সওগাত' হয়ে উঠেছিল সমকালের স্বনামধন্য শ্রেষ্ঠতম মুফতিদের তাত্ত্বিক পর্যায়ে মধ্যে সাড়া জাগানো মৌলিক আলোচনা পর্যালোচনার কেন্দ্র বিন্দু এবং স্ব স্ব বোধের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের অত্যাশ্চর্য সূচক।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সর্বোপরি আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে হাকিকত জগতেও গভীর প্রণিধানযোগ্য একটি বিষয় ব্যাপকভাবে সমাজ জীবনকে নাড়া দিয়েছিল তা হলো এই স্বাক্ষরদাতা ৩৩ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষরদাতা ছিলেন শরিয়তি ধারায় উদ্বুদ্ধ স্বনামধন্য মুফতি যাঁদের জাগতিক সামাজিক ধর্মীয় বিচরণ ক্ষেত্র শরিয়ত অধ্যুষিত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যাঁদের প্রচলিত সাধারণ মূল্যবোধে নব প্রবর্তিত মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার সেমা ও সেজদা হারাম। অত্যাশ্চর্য আর এক সমীকরণ হলো মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার বাণী বাহক সর্ব প্রথম কিতাবই হলো সুনির্দিষ্টভাবে সেমা ও সেজদার জায়েজ বিষয়ে ফতোয়া। আরো আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিষয় হলো প্রচলিত সমাজে মুফতিয়ে আজম (সর্বশ্রেষ্ঠ মুফতি) খ্যাত আল্লামা ফরহাদাবাদী এই কিতাবের নামকরণ করেছিলেন তোহফাতুল আখইয়ার 'সৌভাগ্যবানদের সওগাত'। নামকরণও শরিয়তপন্থীদের কাছে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। হারাম-হালালের দ্বান্দ্বিক ফয়সালার চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে হয়ে উঠে যেন 'অগ্নিতে ঘৃতাহুতি'।
শরিয়ত মারফতের যুগপৎ এমন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক চরমদ্বান্দ্বিক বাস্তবতায়উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে ইসলামী জ্ঞান-রাজ্যে সমীহ জাগানিয়া কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসার প্রথমে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী ছাত্র ও পরে একই মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস পদে অভিষিক্ত, ১২ বছর পরে চট্টগ্রামে এসে সর্বপ্রথম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান মোহছেনিয়া মাদ্রাসার বা ঐ সময়ের পরিভাষায় 'বুড়া মাদ্রাসায়' সর্ব প্রথম মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান সূত্রে চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য স্বনামধন্য আলেম উলামার ওস্তাদ হিসেবে হয়ে উঠেন 'ওস্তাদুল ওলামা' সেই স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব 'সফিনাতুল এলম' খ্যাত মুফতিয়ে আজম আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরীর মতো সমাজ জীবনে এমন সমীহজাগানিয়া শরিয়তি আলেম কর্তৃক প্রকাশ্যে তোহফাতুল আখইয়ার কিতাবে স্বাক্ষর দানের ঘটনা চট্টগ্রামের সমাজ জীবনে ঐ সময়কালে উচ্চতর তাত্ত্বিক জ্ঞানরাজ্যে এক আকর্ষণীয় নবতর চিন্তার দ্বার উন্মোচন করে দেয়।
স্থান কাল পাত্রের আলোকে এই প্রেক্ষাপটের ঐতিহাসিক বিশেষত্ব: উনবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মুসলিম মানসের বিশ্লেষণে এক অত্যাশ্চর্য নবযুগের সূচনা করে দর্শন শাস্ত্রে জার্মানি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী পণ্ডিত ড. মুহম্মদ ইকবাল তাঁর "The Reconstruction of religious thought in Islam" গ্রন্থে। ১৯৩০ সালে প্রকাশিত এই সুগভীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের প্রতিফলন বাংলার সমাজ জীবনের চরম বাস্তবতায় প্রকটভাবে ফুটে ওঠে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের রক্তক্ষরণের হৃদয় নিংড়ানো অভিব্যক্তিতে-
বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে আমরা তখনো বসে, বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি ফেকা ও হাদিস চষে। হানাফী, ওহাবী, লা মজহাবীর তখনো মেটেনি গোল, এমন সময় আজাজিল এসে হাঁকিল তলপী তোল ভিতরের দিকে যত মরিয়াছি, বাহিরের দিকে তত গুনতিতে মোরা বাড়িয়া চলিয়াছি গরু ছাগলের মতো।
(কবিতা: খালেদ। কাব্য গ্রন্থ জিঞ্জির। নজরুল রচনাবলী ১, পৃ ৪৩৯) মেধাশূন্য, আত্মঘাতী, স্বকপোলকল্পিত ফতোয়াবাজির দুর্বিষহ সামাজিক যাতনার জাঁতাকলে পিষ্ট সামগ্রিক মুসলিম মানসের এই ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর বেলায়তে মোতলাকা বা মুক্ত বেলায়ত তথা মুক্ত সুফিবাদের বাণী বাহক মাইজভাণ্ডারী তরিকা রূদ্ধদ্বারে মুক্ত প্রাণের সঞ্জিবনী সুধা বর্ষণের ধারার সূত্রপাত ঘটায় যা অনেকের কাছে সহজবোধ্য ছিলনা, বরং কৌতূহলের উদ্রেক করেছিল বহুলাংশে। স্বনামধন্য মাইজভাণ্ডারীখলিফা বাহারুল উলুম খ্যাত মাওলানা আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী তাঁর সুপ্রসিদ্ধ আয়নায়ে বারী কিতাবে (রচনাকাল ১৯১০) ঐ সময়ের জন মানসের চিত্রকল্প তুলে ধরেছেন সুন্দরভাবে "বালকেরা সমুদ্রে বড় জাহাজ দেখলে যেভাবে সবিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে সাধারণ মানুষ মাইজভাণ্ডার বিষয়ে সে রকম হতবাক ও বিস্ময় প্রকাশ করতো"।
এমতাবস্থায় সরাসরি মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার অনুসারী না হয়েও তদীয় বয়োকনিষ্ঠ শাহ আহমদ উল্লাহ (১৮২৬-১৯০৬) মাইজভাণ্ডারীর প্রবর্তিত মাইজভাণ্ডারী তরিকার সর্বপ্রথম প্রকাশিত দলিল তোহফাতুল আখইয়ারে সমকালের স্বনামধন্য মুফতিগণকে সমবেত করে তাঁদের মুরুব্বি হিসেবে 'মুফতিয়ে আজম' আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরী এতে ১ নম্বরে স্বাক্ষর দান করে মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকাকে মর্যাদাপূর্ণভাবে বেষ্টন করে নেওয়ার যে অবিস্মরণীয় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তা একইসাথে অনেকগুলো সৃজনশীল নতুন মাত্রিকতার উৎসমুখ উন্মোচন করে দেয় অবলীলাক্রমে। যা ঐতিহাসিক সূত্রে বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি, সুফিবাদের অভয়ারণ্য চট্টগ্রামের মাটিতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ও তাঁর সর্বজনীন মানবতার বাণী বাহক মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার ভৌগোলিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক ধর্মীয় আধ্যাত্মিক পাটাতনকে তাত্ত্বিক ও যৌক্তিকভাবে মজবুত করনের ক্ষেত্রে যে সমীহজাগানিয়া অনুঘটকের ভূমিকা তাতে সমসাময়িকতার উর্ধ্বে মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার প্রকাশ বিকাশে আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরীকেন্দ্রিক যে আবহ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে ঐতিহাসিক বেশ কিছু তাৎপর্য বিশেষত্ব গভীরভাবে নিহিত। যেমন: (১) সূচনাপর্ব থেকে বিভিন্ন সময়ে খেলাফত প্রাপ্ত খলিফাদের লিখিত দলিলে এক সূত্রে গ্রথিত করার ইতিহাস সৃষ্টি। যেমন: সর্বপ্রথম খলিফা মাওলানা অছিয়র রহমান চরণদ্বীপিসহ সূচনাপর্বের কাজী আছদ আলী, ক্বারী তফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।
(২) তরিকার বাইরের প্রজ্ঞাপূর্ণ মুফতি মাওলানাদের সাথে মাইজভাণ্ডারী প্রজ্ঞাবান জ্ঞান সাধক খলিফাদের সমন্বয় সাধনের সূত্র তৈরি।
(৩) মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার তাত্ত্বিক ভিত্তির আইকন'দের যোগসূত্র স্থাপন।
যেমন: সর্বপ্রথম মাইজভাণ্ডারী সাহিত্যিক আল্লামা ফরহাদাবাদী, আয়নায়ে
বারীর রচয়িতা আল্লামা আবদুল গনি কাঞ্চনপুরী প্রমুখের যোগসূত্র রচনা।
(৪) বৈরী পরিবেশে ১৯০৭ সালে সর্বপ্রথম বার্ষিক ১০ মাসের ওরশ জাঁকজমকপূর্ণ পালন এবং পরবর্তীকালে ১০ মাঘ পালনের ক্ষেত্রে কৌশলীপন্থাঅবলম্বনের নকীবদের একত্রিত করার যোগসূত্র। যেমন: আমির ভাণ্ডার, চরণদ্বীপ, আহলা দরবার, হারবাংগিরী দরবার, সর্বোপরী আল্লামা ফরহাদাবাদীর ফরহাদাবাদ দরবার শরীফ। উল্লেখ্য এর মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য আমির ভান্ডার ছিল রীতিমতো প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর। ২০১৪ সালে এই দরবার থেকে আদরের কালা সোনা নামে সৈয়দ আমিরুজ্জমা শাহ এর "জীবন ও কর্ম" গ্রন্থের ৭৫ নং পৃষ্ঠায় এতদবিষয়ে বর্ণনাটি চিত্রকল্পের মতো ঐতিহাসিক দলিলে পরিগণিত হয়ে আছে।
(৫) গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর নামাজে জানাজায় ইমামতির হাকিকতি ফয়সালায় উপস্থিত শত সহস্র স্বনামধন্য আলেম-উলামার উপস্থিতিতে আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরীকে ইমামতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এঁদের পারস্পরিক সম্পর্ককে জাগতিকতার ঊর্ধ্বে আধ্যাত্মিক মহিমায় মাধুর্যপূর্ণ করে তুলেছে চিরায়ত শাশ্বত ধারায়।
(৬) নামাজে জানাজার ইমামতির ফয়সালা বিষয়ে একটি ঘটনা আবার জড়িত হয়ে আছে হযরতের সর্বপ্রথম খলিফা জিল্লে গাউসুল আজম মাওলানা অছিয়র রহমান চরণদ্বীপির সাথে। যাতে আরো নতুন মাত্রিক আধ্যাত্মিক সম্পর্ক নিহিত। হযরতের ওফাতের ২০ দিন পূর্বে মাওলানা চরণদ্বীপির দরবারে আগমন, রুদ্ধদ্বার মুক্ত প্রাণের জীবনের সর্বশেষ ভাব বিনিময়, বৈঠক শেষে উৎসুক্য শতশত খলিফা আশেক ভক্তের উদ্দেশ্যে তাঁর বৈঠকের বিষয় কিছু ছিল প্রকাশ্য, কিছু ছিল গোপনীয়। প্রকাশ্যে সুনির্দিষ্ট করে ছিলেন রওয়াজা শরীফের স্থান। কিন্তু নামাজে জানাজার ইমামতির বিষয়টি তখন প্রকাশ করেননি। ওফাতের পর তিনি নিজে প্রকাশ্যে জানাজায় উপস্থিত হননি। কিন্তু ঠিক ঐ সময় চরণদ্বীপ দরবারের পুকুরে ডুব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে একটি অপরূপ হলদে পাখির অবয়বে জানাজার খাট মোবারকে ৭ বার তওয়াফ করে আল্লামা মছিউল্লাহ মির্জাপুরীর কাঁধে এসে বসে পড়েন। যথারীতি আল্লামা মির্জাপুরীর ইমামতিতে সম্পন্ন হয় নামাজে জানাজা। এতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, জিল্লে গাউছুল আজম মাওলানা চরণদ্বীপি ও মুফতিয়ে আজম আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরীর ত্রিমাত্রিক গভীর সম্পর্ক গবেষণার নতুন উপাদানে হয়ে উঠেছে ভরপুর।
(৭) গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরী, মাওলানা চরণদ্বীপির এই ত্রিমাত্রিক সমীকরণ যৌথভাবে মাইজভাণ্ডারের গভীরতর ইতিহাসের বিষয়ের পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে স্ব স্ব জীবনী প্রণয়নের ক্ষেত্রেওঅবলম্বনের নকীবদের একত্রিত করার যোগসূত্র। যেমন: আমির ভাণ্ডার, চরণদ্বীপ, আহলা দরবার, হারবাংগিরী দরবার, সর্বোপরী আল্লামা ফরহাদাবাদীর ফরহাদাবাদ দরবার শরীফ। উল্লেখ্য এর মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য আমির ভান্ডার ছিল রীতিমতো প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর। ২০১৪ সালে এই দরবার থেকে আদরের কালা সোনা নামে সৈয়দ আমিরুজ্জমা শাহ এর "জীবন ও কর্ম" গ্রন্থের ৭৫ নং পৃষ্ঠায় এতদবিষয়ে বর্ণনাটি চিত্রকল্পের মতো ঐতিহাসিক দলিলে পরিগণিত হয়ে আছে।
(৫) গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর নামাজে জানাজায় ইমামতির হাকিকতি ফয়সালায় উপস্থিত শত সহস্র স্বনামধন্য আলেম-উলামার উপস্থিতিতে আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরীকে ইমামতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এঁদের পারস্পরিক সম্পর্ককে জাগতিকতার ঊর্ধ্বে আধ্যাত্মিক মহিমায় মাধুর্যপূর্ণ করে তুলেছে চিরায়ত শাশ্বত ধারায়।
(৬) নামাজে জানাজার ইমামতির ফয়সালা বিষয়ে একটি ঘটনা আবার জড়িত হয়ে আছে হযরতের সর্বপ্রথম খলিফা জিল্লে গাউসুল আজম মাওলানা অছিয়র রহমান চরণদ্বীপির সাথে। যাতে আরো নতুন মাত্রিক আধ্যাত্মিক সম্পর্ক নিহিত। হযরতের ওফাতের ২০ দিন পূর্বে মাওলানা চরণদ্বীপির দরবারে আগমন, রুদ্ধদ্বার মুক্ত প্রাণের জীবনের সর্বশেষ ভাব বিনিময়, বৈঠক শেষে উৎসুক্য শতশত খলিফা আশেক ভক্তের উদ্দেশ্যে তাঁর বৈঠকের বিষয় কিছু ছিল প্রকাশ্য, কিছু ছিল গোপনীয়। প্রকাশ্যে সুনির্দিষ্ট করে ছিলেন রওয়াজা শরীফের স্থান। কিন্তু নামাজে জানাজার ইমামতির বিষয়টি তখন প্রকাশ করেননি। ওফাতের পর তিনি নিজে প্রকাশ্যে জানাজায় উপস্থিত হননি। কিন্তু ঠিক ঐ সময় চরণদ্বীপ দরবারের পুকুরে ডুব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে একটি অপরূপ হলদে পাখির অবয়বে জানাজার খাট মোবারকে ৭ বার তওয়াফ করে আল্লামা মছিউল্লাহ মির্জাপুরীর কাঁধে এসে বসে পড়েন। যথারীতি আল্লামা মির্জাপুরীর ইমামতিতে সম্পন্ন হয় নামাজে জানাজা। এতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, জিল্লে গাউছুল আজম মাওলানা চরণদ্বীপি ও মুফতিয়ে আজম আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরীর ত্রিমাত্রিক গভীর সম্পর্ক গবেষণার নতুন উপাদানে হয়ে উঠেছে ভরপুর।
(৭) গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরী, মাওলানা চরণদ্বীপির এই ত্রিমাত্রিক সমীকরণ যৌথভাবে মাইজভাণ্ডারের গভীরতর ইতিহাসের বিষয়ের পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে স্ব স্ব জীবনী প্রণয়নের ক্ষেত্রেও

No comments