আসসালামুআলাইকুম
তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি। ক্লাসের এক মেয়ে দেখলাম ফটোকপি করা কিছু কাগজ বিলাচ্ছে সবাইকে। আমাকেও একটা দিলো। কালেমা লেখা কাগজ। পড়ে দেখলাম। মারাত্মক হুমকি দেয়া আছে লেখাতে। "এ কালেমা ১৫ জনকে পাঠান। পাঠালে ০৭ দিনের মধ্যেই একটা সুখবর পাবেন, না পাঠালে চিরজীবন দুঃখে থাকবেন।" মেয়েটা ৩০ জনরে দিছিল। সুখ তার জীবনে আসছে কিনা জানি না। তবে সে হালকা খাঁটো ছিল। আর লম্বা হইতে দেখি নাই। আবার কাউরে না পাঠানোই আমার চিরজীবন দুঃখে থাকার কথা থাকলেও এ ঘটনা আমার সাথে ঘটে নাই।
মাঝেমাঝে দেখি মাংসে আল্লাহু ভেসে উঠে। ইউটিউবে এগুলো নিয়ে ভিডিও বানানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোদমে শেয়ার দেয়া হয়। "দেখুন, আল্লাহর কি কুদরত! মাংসে ভেসে উঠেছে আল্লাহু লেখা।" তুই ছুরি দিয়া গুতায় মাংসে আল্লাহু লিখছস, এখানে কুদরতে কি ঘটলো! আর আল্লাহর কুদরত এত সস্তা হতে যাবে কেন! মাংসে কেন আল্লাহু লেখা তুলে খোদার নিজেকে সত্য প্রমাণিত করতে হবে! তোর মাথার উপর যে খুঁটি ছাড়া আসমান তুইলা রাখছে। এইটা চোখে দেখস না?
এক রাতে ঘুমাইছিলাম। ছোট বেলার ঘটনা। এলাকায় দেখি রাতের বেলা বিরাট হৈচৈ। সবাই কলসি, বোতল নিয়া বাঁশঝাড়ে ছুটছে। হৈচৈ শুনে আমিও দিলাম দৌঁড়। ঘটনা দেখি মারাত্মক। সবাই কচিকচি বাঁশগুলার আগা থেকে গোড়া কেটে পানি খাওয়া শুরু করছে। যে যেদিক দিয়া পারতেছে বাঁশ কাটতেছে। প্রথমে আগা কাটছিল, পানি কম পরায় শেষে গোড়া দিয়া কাটা শুরু করছে। সে রাতে বাঁশের পানি খাইলে নাকি সব রোগ ভালা হইয়া যাচ্ছে। ক্যানসার-আলসার সব। কার কি রোগ ভাল হইছিল জানি না। তবে বাঁশের মালিক নিষেধ কইরা মানাইতে না পারি একজনের পিছন দিয়া মোটা বাঁশ ঢুকাই দিছিল। সে রোগ শুনছিলাম তার এখনো সারে নাই।
আরেকবার এক রাতে এলাকায় বিরাট হৈ হুল্লোড়। রাতের বেলা সবাই ঘুম থেকে উঠে আসমানের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি মনে করছি মান্না-সলওয়া নাযিল হচ্ছে। বড় ডেকসি দুইটা সাথে নিয়ে মারলাম দৌঁড়। দেখি না, ঘটনা ভিন্ন। সাঈদী সাহেবরে নাকি চাঁদে দেখা যাচ্ছে। আমাদের এলাকায় প্রথম দেখছে এক ঘরের দুই বউ। সাতকানিয়া তাদের বাপের বাড়ি। এরাই পুরো এলাকার মানুষরে ঘুম থেকে জাগাইছে। আমি অনেক্ষণ তাকালাম আকাশে।
সাদা চাঁদ ছাড়া কিছু দেখি না। একজনরে বললাম,
~ "ভাই, আমি তো দেখি না।"
- তুমি সুন্নী। তাই তুমি দেখবা না।
~ তো ভাই এখন আমি দেখতে চাইলে কি করতে হবে?
- তোমাকে জামাতে ইসলামী হতে হবে।
~ এত রাতে হুট করে জামাতে ইসলামী কিভাবে হব?
- মনে মনে জামাতে ইসলামী হও। বল, "আমি জামাতে ইসলামী।"
~ এলাকার বড় ভাইয়ের কথা শুনে মনে মনে তিনবার আমি জামাতে ইসলামী বলে, আসমানের দিকে তাকালাম। নিচে দেখি হৈচৈ আরো বেশি। রাতের বেলা ভিড়ের মধ্যে একজন কালু বদ্দার পকেট মেরে দিয়েছে। কালু তারে ঘুষাচ্ছে। ভাবলাম সাঈদী সাহেব দেখার চেয়ে লাথি-উষ্ঠা দেখলে মজা বেশি পাব। আমি ঘুষাঘুষি দেখতে দেখতে সাঈদী সাহেব চাঁদে ঘুমিয়ে পড়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আর দেখা সম্ভব হয় নাই। এলাকায় যে মহিলাগুলো প্রথম দেখছিলো, মাঝেমাঝে গ্রামে গেলে তাদের দোয়া নিই। নেককার মহিলা। গতবার দোয়া নিতে গেছিলাম, ঘরে ঢুকেই দেখি তারা জি সিনেমাতে শাহরুখ খানের কুচ কুচ হোতা হ্যায় দেখতেছে। আর দোয়া নেয়ার সুযোগ হয় নাই। এবার গেলে নিব।
আরেকবার দেখি এলাকায় এক টাকার লাল কয়েন সংগ্রহ করতেছে কয়েকজন বড় ভাই। একটা লাল এক টাকার কয়েন ক্ষেত্রবিশেষে ২০-২৫ টাকা দিয়েও কিনতেছে। সবাই যার যে পরিমাণ আছে বিক্রি করতে লেগে গেল। আমার ঘরে বাঁশের খুঁটিতে একটা ব্যাংক বানাইছিলাম। সেখানে এরকম লাল কয়েন অনেক আছে। কিন্তু আমি বিক্রি করতে রাজি না। তখন আমি একটু পরহেজগার ছিলাম। কুদুরীতে পড়ছিলাম, সমজাতীয় জিনিস একটার দামে আরেকটা বেশি বিক্রি করা সুদ। আমার দাদীকে এই ফতোয়া দিলাম। দাদী খুশি হয়ে আমার জন্য দোয়া করলেন আর বললেন, নিরাপত্তার জন্য যেন কয়েনগুলো বের করে দাদীরে দিই।
দাদী নিরাপত্তার কয়েনগুলো নিয়ে বিক্রি দিছিল। লভ্যাংশ কিছু আমিও পাইছিলাম। সেগুলো দিয়া তখন ০৫ নাম্বার ডিয়ার ফুটবল কিনছিলাম। পরে সন্ধ্যা হতে না হতেই দেখি এলাকার বড় ভাইগুলা বেহুশ। পুরা এলাকা থেকে কয়েন কিন্যা বেঁচতে গেছে দোহাজারী। এক কয়েনে শত টাকা কামাবে। গিয়া দেখে ঘটনা ভুয়া। ভুয়া শুনতেই যে বেহুশ হইছিল ঘরে এনে মুখে জুতা শুকানোর আগে আর হুশ ফিরে নাই।

No comments