Header Ads

ছৈয়দ মছিহ উল্লাহ মির্জাপুরী (রহ:) এর জীবনী বই প্রকাশিত হয়েছে।।

বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় মাইজভান্ডারী তরিকাভুক্ত না হয়েও গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর (১৮২৬-১৯০৬) খালাতো ভাই, পীর ভাই, বেয়াই এবং নামাজে জানাজার ইমামতির সৌভাগ্যে সৌভাগ্যমান আল্লামা মছিহউল্লাহ, মির্জাপুরী (১৮১৬-১৯১৬) বেমেছাল যুগপৎ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মাইজভাণ্ডারী পরিমগুলে নিজেই নিজের উপমা' হয়ে আছেন চিরায়ত শাশ্বত ধারায়।
চট্টগ্রাম মোহছেনিয়া মাদ্রাসার (বুড়া মাদ্রাসা) প্রতিষ্ঠাতা মুহাদ্দিস, তাঁর বহুমাত্রিক তাৎপর্যপূর্ণ বিশেষত্বের গুণে "বড় মাওলানা", "চাদুল উলেমা" অভিধায় অভিষিক্ত হয়ে সমাজ জীবনে যে সমীহজাগানিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন উনবিংশ শতাব্দীতে তা ছিল রীতিমতো বিরল ঘটনা। এই সূত্রে স্বনামধন্য মাইজভান্ডারী খলিফাদের মধ্যে হযরত বাবা ভাণ্ডারী, মাওলানা আমিনুল হক ওয়াসেল, আল্লামা ফরহাদাবাদী, বহুল আলোচিত হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা হাবিবুল্লাহসহ সমকালের স্বনামধন্য জনদের ওস্তাদ হিসেবেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী তাঁর ধূমকেতুসম ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী মাইজভাণ্ডারী তরিকার উচ্চমার্গীয় দর্শন প্রচার-প্রসারে তাঁর দশ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ এই পরম আত্মীয়কে কাছে টেনে নিয়েছিলেন সযতনে সচেতনে।
মাইজভাণ্ডারী সেমা বিষয়ক বহুল আলোচিত "তোহফাতুল আখইয়ার" কিতাবে হযরতের অনুরোধে স্বনামধন্য 'ওস্তাদুল ওলেমা' ও 'মুফতিয়ে আযম' হিসেবে নিজে প্রথমে স্বাক্ষর করে ৩৩ জন সমকালীন মুফতি মাওলানার স্বাক্ষর গ্রহণ করে প্রায় বিতর্কিত সেমার ফতোয়াকে বহুলাংশে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। একইসাথে তাঁর মির্জাপুর দরবারে হযরত বাবা ভাণ্ডারীর স্বতঃপ্রণোদিত শুভাগমন, প্রকাশ্যে বড় আয়োজনের সেমা মাহফিলের ঘটনা। এ ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছিল রীতিমতো উল্লক্ষন।
কিন্তু এতগুলো ঐতিহাসিক বিশেষত্বের অধিকারী আল্লামা মছিহউল্লাহ মির্জাপুরী ইতিহাসের আলোচনা-পর্যালোচনায় তুলনামূলক বিচারে বহুলাংশে সংকুচিত। তত্ত্ব তথ্য-উপাত্তের সংগ্রহ সংরক্ষণের অভাবে এই ইতিহাস আজ বহুলাংশে লুপ্ত বা লুপ্ত-প্রায়। শতাধিক বছরের পথ পরিক্রমায় প্রায় অনালোচিত, অথচ মাইজভান্ডারী তরিকার পূর্ণাঙ্গ প্রামান্য ইতিহাস প্রণয়নের তত্ত্বসমৃদ্ধ পাটাতন সৃষ্টিতে তাঁর জীবন কর্ম তুলে আনা ছিল বিকল্পহীন দাবি। ইতিহাস-ঐতিহ্য সংগ্রহ সংরক্ষণ, সর্বোপরি তাঁকে উচ্চতর গবেষণার আলোকে তত্ত্ব তথ্য-উপাত্তে বিশ্বস্ততার সাথে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এ শূণ্যতা পূরণে নৈতিক কর্তব্যবোধ থেকে এগিয়ে আসেন স্বনামধন্য মাইজভাণ্ডারী গবেষক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর। অজানা কথা, অনালোচিত বিষয়, লুপ্ত বা লুপ্ত প্রায় তত্ত্ব তথ্য-উপাত্তকে রীতিমতো সাগরসেঁচে মুক্তো আহরণের মতো, খনি থেকে হীরক উত্তোলনের মতো সযতনে তুলে এনে তাঁর শ্রম, মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি, সর্বোপরি মাইজভান্ডার বিষয়ে ৪ দশকের জ্ঞান-প্রজ্ঞার সুসমন্বয়ে যে ঐতিহাসিক গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন তাতে আমরা, আমাদের দরবার রীতিমতো বিস্মিত, তাঁর প্রতি
চিরকৃতজ্ঞ।
আমাদের বিশ্বাস, তাঁর বাংলা একাডেমির মাইজভাণ্ডার সন্দর্শন (১৯৯৯) গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী শতবর্ষের আলোকে (২০০৬), মাইজভাণ্ডারী তরিকার তাত্ত্বিক বিশ্লেষক ও স্বরূপ উন্মোচক সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (২০০০)-এর পাশাপাশি এই গ্রন্থটিও মাইজভাণ্ডারের ইতিহাসে আকর্ষণীয় নতুন মাত্রিকতায় সৃষ্টি করবে ইনশা-আল্লাহ।










No comments

Powered by Blogger.