গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) ও আল্লামা মির্জাপুরী (ক.) সাধারণভাবে প্রচলিত ধারণায় গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর বংশ ধারার ইতিহাস মানেই মাইজভাণ্ডারের ইতিহাস। প্রচলিত প্রথাগত বিধিবদ্ধ ধারণার মধ্যে একটি বড় ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করে দেখালেন আল্লামা মির্জাপুরীর আকর্ষণীয় জীবন ও দর্শন। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর প্রত্যক্ষ বংশধারার বাইরে স্বতন্ত্রসত্তায় অবস্থান করে যেভাবে যে মাত্রিকতায় তাকে বেষ্টন করে আছেন তা এক অভিনব ইতিহাসের জন্ম দিয়ে চলেছে। তাই এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনী প্রায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৪। মাইজভাণ্ডার তরিকার প্রকাশ ও বিকাশে সর্বপ্রথম সাহিত্য রচয়িতা আল্লামা ফরহাদাবাদীর তোহফাতুল আখাইয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রয়োজনে স্বয়ং গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী এই পাণ্ডুলিপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। অতঃপর তাঁর অনুসরণে সমকালের স্বনামধন্য যে ৩৩ জন স্বনামধন্য আলেম এতে স্বাক্ষর করেছিলেন তাঁর প্রথম জনই ছিলেন মুফতী আল্লামা মির্জাপুরী (ক.)। ১৫। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর সুগভীর আধ্যাত্মিকতাপূর্ণ কালামসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে সূত্রধর হিসেবেও আল্লামা মির্জাপুরীর এমন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা প্রায় চলম...
দ্বীন ও শরিয়ত বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন আল্লামা মুফতি ছৈয়্যদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী সাবেক অধ্যক্ষ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া, ষোলশহর, চট্টগ্রাম । হাফেজ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আলিম ১ম বর্ষ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া। প্রশ্ন: ছাত্রদের লেখাপড়া ভাল হওয়ার জন্য এবং স্মৃতিতে স্থায়ী করার জন্য এবং ভুলে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন আমল জানালে খুশি হব। উত্তর: হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর শিক্ষক হযরত ওয়াকি রহমাতুল্লাহি আলায়হিকে পড়া মুখস্থ বা মনে না থাকার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন তুমি গুনাহর কাজ হতে দূরে থাক। এতে তোমার স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পাবে। দরূদ শরীফ এবং রাব্বি জিদনি ইলমা মহব্বতের সাথে বেশী বেশী পড়লেও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। তালিমুল মুতাআল্লিম কিতাবে উল্লেখ আছে 'পড়া মনে রাখার শক্তিশালী উপায় হল কঠোর প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক পঠন, কম আহার এবং তাহাজ্জুদের নামায পড়া। কুরআন করিমের তিলাওয়াত ও স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম উপায়। কোন কোন ইমাম বলেছেন-স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির জন্য দেখে কুরআন করিম তেলাওয়াতের চেয়ে অধিক কার্যকরী কোন ব...
ভূমিকা ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সমাজ বিজ্ঞানী, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যুগান্তকারী তত্ত্ব তথ্য এবং এর অনুষঙ্গ হিসেবে উচ্চমার্গীয় অপরিহার্য তথ্য উপাত্ত আর এর সৃজনশীল তাৎপর্যমন্ডিত প্রকাশ বিকাশ ধারায় বিস্ময়কর আকর্ষণীয় বিষয় হিসেবে বিংশ শতাব্দীতে এ ভূখণ্ডে প্রজ্ঞাপূর্ণ জ্ঞান-রাজ্যের ক্ষেত্রে এক অবিশ্বাস্য অভাবনীয় নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করে দেয় গাউছুল আজম শাহ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (১৮২৬-১৯০৬) ও তাঁর মহাসমুদ্ররূপী মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকা। সূচনাপর্ব থেকে স্থান কাল পাত্রের আলোকে এই ব্যতিক্রমী অতিক্রান্ত আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রাগ্রসর চিন্তা-চেতনার নবতর তরিকা হয়ে উঠেছিল সুগভীর তাত্ত্বিক আলোচনা পর্যালোচনা এবং একইসাথে তীব্র সমালোচনারও বিচারবস্তু হিসেবে। চট্টগ্রামের সমাজ জীবন থেকে উত্থিত এই তরিকা এক আশ্চর্য প্রক্রিয়ার (Interaction) এর জন্ম দেয়; যা একইসাথে আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় ও নিস্তরঙ্গ শরিয়তি সমাজ জীবনেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কায়মনোবাক্যে ভক্তি শ্রদ্ধা ভালোবাসার পাশাপাশি একজন সমাজ তত্ত্বের অনুসন্ধানী গবেষক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে সূচনালগ্ন...
কুরবানীর ৬৫ টি মাসআলা❗ """""""""""""""""""""""""""""""""" কুরবানী একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিময় আমল।আল্লাহ বলেন فصل لربك وانحر হে নবী! আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন আর নহর (কুরবানী) করুন। কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ মালী ইবাদত। এটি আদায় করা واجب ( ওয়াজিব)। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না, তার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন من وجد سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য আছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’-مستدرك حاكم, হাদীস নং ৩৫১৯; الترغيب والترهيب ২/১৫৫ ইমাম আজম আবু হানিফা রহঃ ও ইমাম আওযায়ীসহ জমহুরদের মতে কুরবানী সামর্থবান স্বাধীন বয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তায়ালার اطاعت বা আনুগত্য এবং তাঁর রেজামন্দি লাভ করা। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। এক. اخلاص তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন ক...
তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম মাইজভাণ্ডারি মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) (১৮২৬-১৯০৬) আজ থেকে দীর্ঘ চার শতাধিক বছর আগে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে গৌড়নগর বিচারালয়ের কাজী সৈয়দ হামিদ উদ্দীন বাংলার রাজধানী গৌড়নগর থেকে সুদূর চট্টগ্রামের পটিয়া থানার অন্তর্গত কাঞ্চননগরে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর নামানুসারেই স্থানীয় গ্রামের নামকরণ করা হয় হামিদগাঁও। তাঁরই এক পুত্র জনাব সৈয়দ আবদুল কাদের মসজিদের ইমামতি উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার অন্তর্গত আজিমনগর গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। সৈয়দ আবদুল কাদেরের পুত্র সৈয়দ আতাউল্লাহ এবং তদীয় পুত্র সৈয়দ তৈয়বউল্লাহ্। সৈয়দ তৈয়ব উল্লাহ্র তিন পুত্রের অন্যতম মৌলবি সৈয়দ মতিউল্লাহ আজিমনগর থেকে মাইজভাণ্ডার গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। তাঁরই ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুলআযম হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)। কাজী সৈয়দ হামিদ উদ্দিন (গৌড় থেকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় আগমন। (১৫৭৫) সৈয়দ আবদুল কাদের (ফটিকছড়ির আজিমনগরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন) সৈয়দ আতা উল্লাহ্...
hi
ReplyDelete